Tag Archive

Tag Archives for " Rasel Ahmed "

আমার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হয়ে ওঠার গল্প, শুরুর গল্প…

Rasel Ahmed

Rasel Ahmed

২০১২ সাল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব, কিন্তু বাসা থেকে অনুমতি না দেয়ায় সিদ্ধান্ত নিলাম অনলাইনে কাজ করে প্রইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব। তখন আমি ভাবতাম অনলাইনে টাকা ইঙ্কাম করা খুবই সহজ, ইচ্ছা করলেয় হাজার হাজার ডলার ইঙ্কাম করা যাই, (আসলেই ইঙ্কাম করা যাই – কিন্তু কাজ না জানলে অনলাইনে ইঙ্কাম করা সবচেয়ে কঠিন ) যাইহোক শুরু করলাম ডলেঞ্ছার, বিডিক্লিক। বাসা থেকে টাকা এনে সব একাউন্ট করতে ইনভেস্ট করলাম। যা ইঙ্কাম করি সব আবার নতুন নতুন একাউন্ট করতে ইনভেস্ট করতে থাকি, ভাবতাম যখন অনেক টাকা হবে, এক সাথে অনেক টাকা তুলে সবাইকে চমকে দিব। কিন্তু হঠাৎ একদিন দেখি আর ডলেঞ্ছার এ লগইন করা যাচ্ছে না, একে একে সব গুল পিটিসি সাইট বন্ধ হয়ে গেল। আর আমার যা কিছু ছিল সব ধূলিসাৎ হয়ে গেল। বেশ বড় এমাউন্টের টাকা লস করলাম। হতাস হয়ে ভাবলাম অনলাইনে সব ভুয়া।

তারপর প্রায় ছয়মাস পর আলহেরাবিডি-র কিছু এসইও(অফপেজ) টিউটোরিয়াল সংগ্রহ করে কিছুদিন টিউটোরিয়াল দেখে, ভালভাবে না সিখেই ওডেস্কে(আপওয়ার্ক) বিড করা শুরু করলাম, ইংরেজিতে মোটামুটি ভাল হওয়ার কারনে ১ সপ্তাহের মদ্ধেই ১টা কাজ পেয়ে গেলাম, কিন্তু ভালভাবে কাজ শেষ করে না দিতে পারার কারনে ৩.৫ স্টার ফিডব্যাক পেলাম, যার কারনে পরবর্তীতে কাজ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গেল। এভাবেই তখন হজবরল সব কিছু চেষ্টা করতে থাকলাম ,প্রাই ২-৩ মাস আর্টিকেল রাইটার হিসেবে কাজ করলাম, স্কটল্যান্ডের প্রাই ২০ টা ব্যাংক নিয়ে আলাদা আলদা আর্টিকেল লিখে আর্টিকেল রাইটার হয়ে গেলাম কিন্তু ওই প্রজেক্ট শেষ হবার পর আবার আর কোন কাজ পাইনা, কিছুদিন ফরেক্স ফোরাম পোস্টিং করলাম,ফ্রিলাঞ্চার.কম এ কয়েকটা ডাটা এন্ট্রি কাজ করলাম। অবস্থা এমন যে সামনে যা পাই তাই নিয়ে লেগে পরি। কোন গাইড লাইন দেয়ার মত কেও  ছিলনা সুতরাং সামনে যা পাই তাই চেষ্টা করতে থাকি। মাঝে মাঝে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়েও পড়াশোনা করতে থাকি এবং এইচটিএমএল সিএসএস শিখতে থাকি।

 

তখন আমি আর আর ফাউন্ডেশনের রাসেল আহমেদ ভাই কে চিনতাম। একদিন রাসেল ভাইকে ফোনে বিস্তারিত লিখে ম্যাসেজ দিলাম, কিছঙ্খন পর ফিরতি  ম্যাসেজে রাসেল ভাই আমাকে উনার অফিস(আর আর ফাউন্ডেশন) এ আসতে বললেন। আমি উনার এলাকার ছোটভাই হওয়ার কারনে কোন পরিক্ষা ছাড়াই আমাকে উনার ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্সে ভর্তি করিয়ে নিলেন। আমি তো মহা খুশি, ফাইনালি সত্যি সত্যি অনেক ইঙ্কাম করা যাই এমন কাজ শিখতে যাচ্ছি। এভাবেই শুরু হল আমার ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখা।

২০১৪ সালের জুন মাস, আর আমি তখন আর আর ফাউন্ডেশনে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখছি, হঠাৎ একদিন রিফাত আহমেদ ভাই এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর টিউটোরিয়াল দেখলাম। দেখে মনে হল এইটা বেস্ট, আমার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-ই শেখা উচিৎ। যাইহোক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর রিফাত ভাইয়ের টিউটোরিয়ালগুল মাঝে মাঝে দেখতাম। এরপর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার পর রেগুলার প্রাকটিস আর মারকেটপ্লেস কাজ করতে থাকি। ওডেস্কে ৪ টা প্রজেক্ট করার পর ৫ম বার আবার ১ টি ৪স্টার এর ফিডব্যাক পাই, কারন ছিল প্রজেক্ট জমা দিতে ১ দিন লেট,(তখন আমি গিটহাব বুঝতাম না তাই গিটহাবে প্রজেক্ট রেডি করে জমা দিতে ১ দিন দেরি হয়েছিল)। এত পরিশ্রম করে কাজ সিখেও নিজেকে পরাধীন পরাধীন মনে হত, একই প্রজেক্ট বার বার রিভিশন দেয়া, ক্লাইন্ট এর খারাপ ফিডব্যাক দেয়ার হুমকি, ইঙ্কাম করলেও মার্কেটপ্লেসে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। (আমার পরিচিত / আশেপাশে অনেকেই আছে যারা ফ্রিলাঞ্চিং এ অত্যন্ত সফল, হয়তো আমারই সমস্যা মনে হতো অথবা ফ্রিলাঞ্চিং এ আমার ভাললাগা টা ওইভাবে কাজ করতো না।)

তারপরও কাজ করতে থাকি আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর টিউটোরিয়াল দেখতে থাকি মাঝে মাঝে, দেখে দেখে ক্লিকবাঙ্কে একাউন্ট করে ফেলি। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কাজের ফাকে ফাকে সময় পেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্র্যাকটিস করতে থাকি। এরপর (২০১৫)জানুয়ারি মাসের ২ তারিখ ক্লিকবাঙ্কে লগইন করে দেখি একাউন্টে ৭৮ ডলার জমা হয়ে আছে। সে কি আনন্দ বলে বোঝানো সম্ভব না। তারপর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ একটু বেশি বেশি সময় দিতে শুরু করলাম, ইউটিউব দেখে আর রিফাত ভাইয়েত ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে শিখতে থাকি আর কাজ করতে থাকি। প্রথম সপ্তাহে প্রাই ৪৮০ ডলার ইঙ্কাম করে ফেলি। আর তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই ফুলটাইম অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার। আস্তে আস্তে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বাদ দিয়ে দিই আর আমার মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করি। এখনও চলছে আর মার্কেটিং বাদ দিয়ে অন্য কিছু করার ইচ্ছাও নাই। ইন্টারনেট/অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়েই থাকতে চাই। আলহামদুইল্লাহ বেশ ভাল আছি।

আর এত কিছুর মধ্যেই পড়াশোনাও কন্টিনিউ করেছি মাসআল্লাহ্‌, বিবিএ শেষ করে এখন এমবিএ করছি 🙂